রায় সাহেব পন্চানন বর্ম্মার জীবনী ( লেখক: শ্রী ক্ষেত্রনাথ সিংহ) পুস্তক থেকে সম্পাদক ডঃ নৃপেন্দ্রনাথ পাল মহাশয়ের “সম্পাদকের প্রাককথন”  থেকে কিছু অংশ তুলে ধরা হল। 

গীতার জ্ঞানযােগ, ৪র্থ অধ্যায়ে ৭/৮ শ্লোকে শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন হে অর্জুন, যে যেসময়ে ধর্মের হানি ও অধর্মের প্রাদুর্ভাব হয়, সেই সেই সময়ে আমি আর্বিভূত হই। আমিসাধুগণের পরিত্রাণ, অসাধুগণের বিনাশ ও ধর্মের সংস্থাপনের নিমিত্ত যুগে যুগে জন্মগ্রহণকরি।’মহাগ্রন্থ গীতার কথা অনুসারে সমাজে যখন বিশৃঙ্খলা দেখা দেয় তখন সেইঅন্ধকারাচ্ছন্ন অবস্থা থেকে মুক্তির আলাে দেখাতে স্বয়ং ভগবান বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রূপেঅবতীর্ণ হয়ে সমাজকে উদ্ধার করে থাকেন। এই যুগপুরুষদের আবির্ভাব বৃহত্তর সমাজেযেমন রেখাপাত করে তেমনি তারা নতুন আহ্বানে ডুবন্ধ মানুষকে উদ্ধার করে স্মরণীয় হয়ে থাকেন।ইতিহাসের পৃষ্ঠায় এরূপ বহু ঘটনা রয়েছে। স্মরণাতীত কাল থেকে যে ঘটনা ঘটে আসছে তার ধারা এখনও অব্যাহত।

উনবিংশ শতাব্দীতে ইংরেজ শাসনের শৃঙ্খলে আবদ্ধ সমাজ যখন পরানুকরণে ব্যস্ত,সেই সময় বিপথগামীদের সঠিক পথ দেখাতে, ভারতীয় সভ্যতা, প্রাচীন গৌরবময় অধ্যায়বিষয়ে যুগপােযােগী ভাবে ও ভাষায় ব্যাখ্যা করে মােহগ্রস্ত মানুষকে স্বধর্ম, সংস্কৃতি বিষয়েতেজোদ্দীপ্ত ভাষণ দিয়ে, গ্রন্থ প্রকাশ করে, নিজের জীবনে কঠিনভাবে পালন করে সমাজকে অনুপ্রাণিত করেছেন। তাদের সভ্যতাভিমানী ভাবনা সমস্ত দুনিয়াকে ভাবিয়ে তুলেছে। সমাজ ভাবনার সন্ধিক্ষণে বাংলায় যে নবজাগরণের উত্তাল ঢেউ আছড়ে পড়তে থাকে তার কারণ অনেকগুলাে। সেসময় কুসংস্কার, ধর্মীয় গোঁড়ামী, জাত-পাত ব্যবস্থার অভিশাপ, সতীদাহ-ব্যবস্থা, বিধবাবিবাহ বিরােধিতা, শিক্ষার আধুনিকীকরণে বাধাদান, স্বাধীন চিন্তার অভাব,অবজ্ঞা প্রভৃতি বিশেষভাবে উল্লেখযােগ্য। এই সব সমস্যা সমাধানে নবযুগের শঙ্খধ্বনিশােনাতে একাধিক যুগপুরুষের আবির্ভাব হয়। তাঁরা আজ নিজ নিজ ক্ষেত্রে স্মরণীয় অধ্যায়সৃষ্টি করে আমাদের কাছে প্রাতঃস্মরণীয় হয়ে আছেন। কেউ কেউ আবার দেবতার আসনেপ্রতিষ্ঠিত। বাংলার এই নবজাগরণের ভাবনার উজ্জ্বল আলাে কেবলমাত্র কলকাতাকেন্দ্রিকহয়ে থাকেনি। ছড়িয়ে পড়েছিল বিভিন্ন প্রান্তে বিভিন্নরূপে। যুগমানসিকতার সঙ্গে খাপখাইয়ে তার নবজাগরণের রূপরেখা তৈরী করেছিলেন। স্বদেশী আন্দোলনের ঝড়াে হাওয়ার মধ্যেও এই মানসিক উৎকর্ষতা বৃদ্ধির উদ্যোগ আলােড়ন তুলেছিল। সে সময় বাংলায়সমাজ সংস্কারক রূপে আমরা বিশেষ করে পাই ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, রামমােহন রায়,কেশবচন্দ্র সেন, দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর, বিবেকানন্দ প্রভৃতি মহান সমাজ সংস্কারকদের। তাঁরাবিভিন্ন দিকে যুগান্তকারী হাওয়া তুলে সমাজকে রক্ষা করেছেন। মানুষের মধ্যে সময় উপযােগীভাবনার উন্মেষ ঘটিয়ে জাতীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে রক্ষা করেছেন। বাংলার মনীষীদেরমধ্যে অনেকে আবার ধর্মকে কেন্দ্র করে সামাজিক বিপ্লবের পথের সন্ধান করেছিলেন।

বিশিষ্ট আইনজ্ঞ, সমাজসংস্কারক, ক্ষাত্র আন্দোলনের প্রাণপুরুষ, নারী জাগরণেরজাদুকাঠি, সুলেখক, সুপন্ডিত ঠাকুর পঞ্চানন বর্মার আবির্ভাবও যুগের দাবিতে। তৎকালীনকরন মিত্র রাজ্য কোচবিহার তথা এতদ অঞ্চলের জনগােষ্ঠীর মধ্যে নব-চেতনার বীজ রােপণে তিনি জীবন উৎসর্গ করেন। রাজশাসনে কোচবিহার রাজ্যে রাজনৈতিক, সামাজিকআন্দোলনের বহিঃপ্রকাশ না ঘটায় এখানকার মানুষ অন্ধকারেই ছিল।এখানে রাজনৈতিকআন্দোলন নিষিদ্ধ ছিল। বহির্বিশ্বের খবরও খুব একটা পাওয়া যেত না। সাধারণ মানুষঅল্পতেই তুষ্ট থাকার ফলে এবং রাজভক্ত প্রজা হওয়ায় কিছু দাবি করে পারার আশাইকরতাে না। লােকসংখ্যা কম থাকায় কৃষি নির্ভর এই অঞ্চলের মানুষের বহু জমি পতিতপড়ে থাকতাে। এক ফসলী জমি নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতাে। ছেলেদের মধ্যে কিছুটা শিক্ষারভাবনা থাকলেও মেয়েদের লেখাপড়া শেখা বা স্বাবলম্বী হবার কথা ভাবা ছিল অবান্তরচিন্তা। ঠাকুর পঞ্চানন বর্মা এই পরিবেশের মধ্যে জন্মগ্রহণ করেও এক ব্যতিক্রমী ব্যক্তিত্বহিসাবে স্বীকৃত। তিনি সাধারণ ঘরে জন্মগ্রহণ করলেও মনের দিক থেকে ছিলেন নবভাবনারবার্তাবাহী। তিনি বিভিন্ন স্থানে লেখাপড়া করেন। বিভিন্ন স্থানের ছাত্রের সঙ্গে, শিক্ষক এবংবিভিন্ন ব্যক্তিত্বের সঙ্গে মেলামেশার সুযােগে মনের জানালা খােলার সুযােগ পান। এখানকারঅজ পাড়াগাঁয়ের একটি ছেলে বাইরে গিয়ে পড়াশােনা করবে এটাও যেন একটা ঈ্শ্বর,নির্দিষ্ট পথ। এই সুযােগকে কাজে লাগিয়ে তিনি তার অন্তর্দৃষ্টিতে তার জাতের মানুষেরঅবস্থা পর্যালােচনা করার সুযােগ পান এবং আগামীতে এই অবহেলিত জাতিকে কিভাবেজগিয়ে তুলবেন তার মানসিক প্রস্তুতিও চলতে থাকে। ভাল ছাত্র নরেন্দ্রনাথ দত্ত তৎকালেবি. এ. পাশ করে চাকুরীর সন্ধানে দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কিছু করতে পারেননি, কারণ তিনি তােএকটি পরিবারের সুখ-সুবিধার কথা ভাবতে এই ধরাধামে আসেননি। তিনি এসেছেন বিরাটমহীরুহ হয়ে সমাজ, সভ্যতা, ভারতীয় সংস্কৃতি ও ধর্ম বিষয়ে ভারত তথা পাশ্চাত্য দুনিয়াকেনতুন পথ দেখাতে। তাঁর তীক্ষ্ণ বুদ্ধি, বিশ্লেষণী ভাষণ ও বাণী পরবর্তীকালে জাতীয় আন্দোলনকে এবং ধর্মীয় ভাবনায় নতুন জোয়ার আনে। তিনি আজ সবার কাছে কিশ্ববিবেক স্বামী বিবেকানন্দ রূপে বন্দিত।

ঠিক একই চিত্র দেখতে পাই ঠাকুর পঞ্চাননের ক্ষেত্রে, তিনি ১৮৯৬ খ্রিস্টাব্দে এম.
এ. পাশ করে এসেও দেশীয় রাজ্য কোচবিহারে মনের মত চাকুরী পাননি। আমরা এই
চাকুরী না পাওয়া বিষয়ে অনেককে দোষী বলে থাকি। কিন্তু আমার মনে হয় এটাও
ঈশ্বরের বিধান। কিছু ব্যক্তি নিমিত্তমাত্র। তিনি তাে এই রাজবংশী সমাজের নবজীবনের
রূপকার হয়ে এসেছেন। সামান্য চাকুরীতে আবদ্ধ থাকলে চলবে কি করে? সে কারণেই
পরবর্তীতে আইন বিষয়ে পরীক্ষায় সাফল্যের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়ে রংপুরে ওকালতির স্বাধীন
ব্যবসায় যােগদান করে সমাজ জাগরণের স্বপ্ন দেখতে আরম্ভ করেন। আত্মবিস্মৃত, আত্মবিমূঢ় জাতি যাতে আত্মপরিচয়, আত্মশক্তি, আত্মগরিমা ফিরে পায় তার জন্য তিনি আন্দোলনকে শানাতে আরম্ভ করেন। তৎকালীন ঐতিহাসিক পটভূমিকায় তার বিচার বিশ্লেষণ করলে এ বিষয়ে অনেক কথাই জানা যাবে। তিনি ধর্ম বিষয়ে কথায় জড়িয়ে না পড়ে গরিষ্ঠ সংখ্যক সাধারণ মানুষের মনে নতুন আশার আলাে জ্বালাতে আন্দোলন আরন্ত করেন। কেবলমাত্র কথায় নয় কাজের মধ্য দিয়েও তার বহিঃপ্রকাশ দেখা যায়। একটি জাতিকে মেরুদন্ড সােজা করে দাঁড়াবার অধিকার আদায়ে তিনি এগিয়ে আসেন। সেই সময়কার উচ্চনীচ ভেদ ভাবের কালােছায়া দুরীকরণে সমাজ ব্যবস্থায় অন্যায় অবিচারের বিরুদ্ধে, জাতির দুর্বল মনকে সবল করতে, অবক্ষয়ের হাত থেকে উদ্ধার করতে মহাজননায়ক তেজস্বী বীরপুরুষগণ গণজাগরণের ধ্বজা উত্তোলন করে একটি জাতিকে রক্ষা করেন। সমাজ সংস্কারের ভাবনা তৈরী হবার পর পর দুটি ঘটনা শ্রদ্ধেয় উপেন্দ্রনাথ বর্মন মহাশয়ের ঠাকুর পঞ্চানন বর্মার জীবনচরিত (পৃঃ ১৩) থেকে তুলে ধরছি – “ইতিপূর্বে বলা হইয়াছে যে রংপুর ধর্মসভায় মিলিত ৪৭০ ব্রাহ্মণ পন্ডিত ও সমস্ত সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি একবাক্যে রাজবংশী সমাজকে আর্য্য ও ব্রাত্যক্ষত্রিয় বলিয়া অভিমত দেন। কিন্তু তৎসত্ত্বেও হিন্দুজাতিরই জমিদার ও উকিল মােক্তারদের একটি অংশে প্রবল বিরােধিতা করিতে লাগিলেন। একদিন উকিল পঞ্চানন তাড়াতাড়িতে সতীর্থ উকিল মৈত্রের টোগা বা টুপী পরিয়া জজকোর্টে এক মামলা করিতে যান। ফিরিয়া আসিয়া ভুল বুঝিতে পারিয়া উকিল মৈত্রকে তা ফেরৎ দিতেই উকিল মৈত্র উত্তেজিতভাবে টোগা দূরে নিক্ষেপ করিয়া বলিয়া উঠিলেন I hate to use a toga used by a Rajbanshi’ ‘রাজবংশীর ব্যবহৃত টোগা ব্যবহার করিতে আমি ঘৃণা বােধ করি। জাতির নামে উক্তি করিয়া তাচ্ছিল্য করায় উকিল পঞ্চানন মর্মে আঘাত পাইলেন।

এর পরেই এক ঘটনা ঘটিল। রংপুর নর্মাল স্কুল বাের্ডিং-এ কয়েকটি রাজবংশী ছাত্র
পড়িত। একটি ছেলে একদিন রান্নাঘরে প্রবেশ করিয়া পাচককে জিজ্ঞাসা করিল ‘রান্না
ইয়াছে কিনা? অমনি ২/৩ টি ছেলে বলিয়া উঠিল যে এই ভাত তারা গ্রহণ করিবে না। অবশেষে গরুকে পাক করা ভাত খাওয়াইয়া নতুনভাবে ভাত রান্না করিতে হয়। ছেলেরা আসিয়া উকিল পঞ্চাননকে সব জানাইল। যুগপৎ নিজের ও জাতির অবমাননায় তীব্র দহন জ্বালায় উকিল পঞ্চানন ওকালতিতে অর্থোপার্জনের আশায় জলাঞ্জলি দিয়া নিয়তির নির্দেশে রাজবংশী সমাজকে একতাবদ্ধ করিয়া লুপ্ত গৌরব উদ্ধারকল্পে সম্পূর্ণভাবে আত্মনিয়ােগ করিলেন।

জাতির প্রতি এই লাঞ্ছনা ও অপমানকর ব্যবহারের প্রতিবাদ করতেই তিন রংপুরকে মূল কেন্দ্র করে সমাজসংস্কারে শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা করে, পন্ডিতরদের সঙ্গে কথা বলে নববিধান দেন। এই ধরাধামে তাঁর সশরীরে অবস্থান ১৮৬৬ খ্রিঃ থেকে ১৯৩৫ খ্রিঃ পর্যন্ত।এই দীর্ঘ ঘ৬৯ বছরে কোচবিহার রাজ্যে পরপর চারজন রাজা অর্থাৎ মহারাজ নৃপেন্দ্রনারায়ণ (১৮৩৩১৯১১), মহারাজ রাজরাজেন্দ্রনারায়ণ (১৯১১-১৯১৩), মহারাজ জিতেন্দ্র-নারায়ণ (১৯১৩-১৯২২) এবং মহারাজ জগন্দীপেন্দ্রনারায়ণ (১৯২২-১৯৭০) রাজত্ব করেন। এই রাজাদের রাজত্বকালে তিনি একাধিকবার কোচবিহারে আসেন এবং জনজাগরণে অংশগ্রহণ করেন।

বঙ্গ সমাজের মত কোচবিহারে সামাজিক ব্যবস্থার সুফলে সতীদাহ বা বিধবাবিবাহ
বিষয়ে কোন সমস্যা না থাকলেও আর্ত নারী রক্ষায় তিনি নারী-রক্ষা উপসমিতি গঠন
করেন। নারীর সতীত্ব রক্ষায় পরিকল্পনা তৈরী করেন। নারীর প্রতি অবহেলা এবং অবলা
বলে দূরে সরিয়ে রাখা এবং তাদের উপর নানা মানসিক ও শারীরিক অত্যাচারের বিরুদ্ধে
প্রতিবাদ করার কেউ নেই দেখে চুপ করে থাকতে পারেননি ঠাকুর পঞ্চানন। তিনি তাদের
রক্ষা করতে স্বশক্তি অর্থাৎ ক্ষত্রিয় শক্তির উপর নির্ভর করে ঘােষণা করেন -“ভাই
ক্ষত্রিয়, জাগাে, আর ঘুমাইও না, ঐ শুন নারীর আর্তনাদ। দুষ্ট কর্তৃক নিপীড়িতা নারীর
আর্তনাদ আকাশ পাতাল মর্ত্ত্যভূমি জলাময় করিয়া তুলিতেছে। আর আপনারা মানুষ,
মানুষের মধ্যে ক্ষত্রিয়, আপনারা চেষ্টাহীন। ভাই ক্ষত্রিয়, চেত, উঠ, সকলে এক হও মাতৃজাতির রক্ষার জন্য সঙঘবদ্ধ হও; কাজে অগ্রসর হও। বীর নব যুবক, উঠ; নিদ্রা ছাড়, লাফাইয়া কাজে পড়। বিষয় বাসনা লইয়া ক্ষত্রিয়ের জন্ম নহে। প্রজা পালন করিবার জন্য,ধর্ম্ম রক্ষার জন্য, গােব্রাম্হণ হিতের জন্য, মা বহিনকে রক্ষা করিবার ও আনন্দ দিবার জন্য ক্ষত্রিয়ের জন্ম।”

(সূত্র: রায় সাহেব পঞ্চানন বর্ম্মার জীবনী – 
ক্ষেত্রনাথ সিংহ)

মেয়েদের প্রতিবাদের আহ্বান তার লেখা ডাংধরী মাও’ কবিতার মধ্যেই লুকিয়ে
আছে। কেউ যদি সাহায্য করতে এগিয়ে না আসে তবে কিভাবে পবিত্রতা রক্ষা করতে হবে
তার উপায় তিনি বলে দিয়েছেন। দুষ্টের দমন এবং আর্তের সেবা করার কথাও তার কবিতায় পাওয়া যায়। নারী জাগরণের এই ভাবনা একটি বিরল দৃষ্টান্ত।

ক্ষত্রিয়ের ধর্ম কি?
হিন্দু মুসলমান বিচার নাইরে, মানুষ জন্ম নয় ভিন্।
উলসি ধায়া আর্তের উদ্ধার, এই ক্ষত্রিয়ের চিন।।
বিপদ ঝন্ঝাট যতএ আইসে, ততএ উল্সে চিত।
আপন বলে বিপদ দমায়, আর গায় ইষ্টের গীত।।
ক্ষত্রিয় নামটা শক্তি সমুদয়, ভগবানও যাক চায়।
সেই নামের এই দশা দেখিয়া হিয়া ফাটিয়া যায়।।
(সূত্রঃ পূর্বগ্রন্থ)

কেশবচন্দ্র সেনের দু’মেয়ের কোচবিহার রাজ পরিবারে বিয়ের ফলে নারী জাগরণ
এবং তাদের শিক্ষা ও সংস্কৃতি জগতের পথ দেখানাের যে চেষ্টা কোচবিহারে হয় সেটা কিন্তু
শহরে বিশিষ্ট লােকের পরিবারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। সেখানে ঠাকুর পঞ্চানন ধনী দরিদ্র নির্বিশেষে সর্বশ্রেণীর মহিলার কথা ভেবে জাগিয়ে তােলার জন্য আন্দোলন করেন।
সাহিত্যসেবক হিসেবেও ঠাকুর পঞ্চানন স্মরণীয় হয়ে আছেন। তিনি স্থানীয় ভাষায়
প্রচলিত কথা, কাহিনী, গান, ছিলকা, লােককথা ইত্যাদি উদ্ধার করে প্রচারের চেষ্টা করেছেন।
মাতৃভাষার উন্নতির কথা ভেবেছেন। নিজে একাধিক তথ্যবছল প্রবন্ধ লিখে হারিয়ে যাওয়া
অত গৌরবময় অধ্যায়গুলি জনসমক্ষে তুলে ধরেন। বিভিন্ন সাহিত্য বাসরে আলােচনায়
অংশ গ্রহণ করেন। দ্বিজ কমললােচনের ‘চণ্ডিকা বিজয়’ কাব্য ১৯১৫ খ্রিঃ তিনি টীকা সহ
প্রকাশ করে সাহিত্য দরবারে নতুন এক অধ্যায়ের সংযােজন করেন। পড়াশােনার সুবিধার জন্য গ্রন্থাগারও তিনি স্থাপন করেন। ক্ষত্রিয় সমাজের কথা ব্যাপকভাবে প্রচারের আশায় ক্ষত্রিয় নামে মাসিক পত্রিকা প্রকাশ করেন।…. 

কিছু ব্যক্তিগত প্রশ্ন থাকল

১। যেখানে পুরোনো সমস্ত পার্সিয়ান রেকর্ড, ব্রিটিশ রেকর্ড “কোচ” জাতি উল্লেখ রয়েছে সেখানে নতুন নোমেনক্লাচার “রাজবংশী” কেন দরকার পরল?

২। রাজবংশী সমাজকে “আর্য” ও ব্রাত্যক্ষত্রিয় যা ৪০০ ব্রাহ্মণ পন্ডিত অভিমত দেন। কিভাবে ব্যাখা করবেন? 

৩। হিন্দু জাতির জমিদারের একাংশ যারা বিরোধিতা করলেন তারা কারা? বাঙালি বর্ণহিন্দু? (সম্পাদক সুকৌশলে এড়িয়ে গেছেন) 

৪। ক্ষত্রিয় আন্দোলন হয়েছিল রংপুরে যা ব্রিটিশের আন্ডারে বর্ণহিন্দু অফিসার দের কন্ট্রোলে ছিল। তারাই সাধারনত সরল কোচ রাজবংশী মানুষদের অফিসিয়াল বলে শোষন করার চেষ্টা করত। কিন্তু সম্পাদক কোচবিহারের উদাহরণ দিয়ে চলেছেন বা কোচবিহারের সামাজিক, রাজনৈতিক অন্ধকারের কথা বলছেন। কোচবিহারে তো বর্ণহিন্দুরা শোষন করতে পারেনি কারন তারাও কোচ মহারাজার আন্ডারে ছিলেন। 

৫। আন্দোলন শুরু হল বর্ণহিন্দু অফিসারদের সামাজিক রাজনৈতিক শোষনের বিরুদ্ধে তথা সাধারণ মানুষকে সচেতন করার জন্য কিন্তু ঠাকুর পন্চানন পরবর্তী দেখা গেল আন্দোলন চলেছে “কোচ” শব্দের বিরুদ্ধে। 

N.B: All old school and colleges set up by Maharajas of Coochbehar. From education point view Coochbehar state was one step ahead compare to other area at that time. But people of Coochbehar was too much simple (If we go to Bhutan presently we can see such type of simplicity of Bhutenese people), it might be due to homogenous mixture of population and culture since long long time. On the other hand Rangpur was open ended controlled by other races people (different language and culture) under British

error: Content is protected !!