মহারাজা নৃপেন্দ্রনারায়ণের নাবালক সমায়কালত কোচবিহার রাজ্যের জমি বিভাগ আর জমির অধিকার।

1883 সালের আগ পর্যন্ত অর্থাৎ মহারাজা নৃপেন্দ্রনারায়ণের নাবালক সমায়কালত কোচবিহারের জমির বিভাগ আর তার অধিকার বা ভুমির স্বত্ববান কেমন ছিল তার খানেক বর্ণনা দেওয়া হৈল্।

জমির বন্দোবস্ত 12 বছরের জন্যে ছিল, রাজা সাবালক হওয়ার (1862-1880 সাল, 18 বছরে সাবালক) পর আরো তিন বছর বলবৎ থাকিবে। পাট্টা যে বছরতে দেওয়া হৌক না ক্যানে সগারে মেয়াদ ঐ 1883 সাল পর্যন্ত। 

বেকেট সাহেব 1874 সালে ভুমির স্বত্ব সম্পর্কে যে রিপোর্ট দ্যান ঐ রিপোর্ট অনুসারে রাজায় হৈল্ একমাত্র জমির অধিকারী। ভারতের অন্য জাগালাত জমিদারের সাথত প্রজালার যেমন সম্বন্ধ এটিখোনা রাজার সাথত জোতদারলার ঐনাকান সম্পর্ক ছিল। জমির স্বত্ববান অধিকারীর ভাগগুলা এইনাকান ছিল-

1. জোতদার

2. চুকানীদার

3. দরচুকানীদার

4. দরাদরচুকানীদার

5. তস্যচুকানীদার

6. আধিয়ার

জোতদার

রাজার নিচতে ছিল জোতদার বা জোত স্বত্বাধিকারী। জোতস্বত্ব পুরুষানুক্রমিক, হস্তান্তর যোগ্য আর দেশীয় আচার ব্যবহার অনুযায়ী বিভাগ যোগ্য। জোতদার যেদু ধার্য কর দেওয়ার জন্যে রাজি হন তালে রাজা জোতের অধিকার দিবে। জোতদারলার খাজনা বাড়িবারও পায়। কিন্তুক নৃপেন্দ্রনারায়ণের সমায় এই খাজনা আগতে ঠিক হয়া গেচিল যেলা রাজা ছোট ছিল। 

চুকানীদার

জোতদারের ঠিক নিচতে হৈল্ চুকানীদার। জোতের কিছু অংশ চুকানীদার ভোগ করে। জোতদারের অনুমতি নিয়া চুকানী ভাগ বেচাও যায়। জোতদার নিজে না কিনিলে চুকানীস্বত্ব ধংস হয় না। দেওয়ানী আর খাজনার ডিক্রীত এই চুকানী জোতদারের অনুমতি ছাড়াই বেচি হবার পায়। চুকানীদারের দখলি স্বত্ব আছে। এটাও পুরুষানুক্রমিক আর বিভাগ যোগ্য। জোতদার রাজাক যা খাজনা দেয় চুকানীদার তার 25% বেশী খাজনা জোতদারক দেয়। কোনসমায় খাজনা দেওয়া খাইবে জোতদারক তা রাজকীয় সার্কুলারত ল্যাখা আছে, সেইটার কপি চুকানীদারেরটে থাকে। জোতদার জোরজুলুম করি বেশী আদায় করির পাইবে না। 

দরচুকানীদার

চুকানীদারের ঠিক নিচত দরচুকানীদার। ইমার স্বত্ব এক হাত থাকি আর হাত হবার পায় কিন্তুক সেটা জোতদারের অনুমতি নিয়া। দরচুকানীদারেরও দখলিস্বত্ব আছে। দরচুকানীদার জোতদারের খাজনার 50% বেশী চুকানীদারক দেয়।

দরাদরচুকানীদার

দরচুকানীদারের নিচত হৈল্ দরাদরচুকানীদার। দরচুকানীদারের কুল্লায় স্বত্ব ইমার ছিল। জোতদারের খাজনার 75% বেশী খাজনা ইমাক দরচুকানীদারক দেওয়া খায়। 

তস্যচুকানীদার

দরাদরচুকানীদারের নিচত হৈল্ তস্যচুকানীদার। তস্যচুকানীদারের সংখ্যা খুব একনা ছিলনা।


আধিয়ার

আধিয়ার বা প্রজা, ইমরা জোতদারের জমিন চাষ করি আধা জোতদারক দেয় আর আধা নিজের জন্যে রাখে। আগত ইমারলার কোনো স্বত্ব ছিলনা। কিন্তুক 1872 এর 4 অক্টোবর লেফটেন্যান্ট গভর্নর ক্যাম্বেল সাহেব আদেশ দ্যান যে কোনো প্রজা যেদু 12 বছর কোনো জমিন আবাদ করে তালে তার দখলিস্বত্বের অধিকার থাকিবে। সগায় কিছু জমিন নিজে চাষ করে আর কিছু আধি দেয়। সুতরাং সগারে আধিয়ার ছিল।

দক্ষিণ বাংলাত যেহেতু জমিদার আর প্রজা এই সম্পর্কে জমির চাষ আর খাজনা দেওয়ার নিয়ম ছিল কিন্তুক কত পার্সেন্ট দেওয়া খাইবে তার কোনো সার্কুলার প্রজারটে ছিলনা ঐজন্যে প্রজালার শোষিত হওয়ার চান্ছ বেশী ছিল। তাছাড়া সৌগ প্রজার জমির স্বত্ব ছিলনা বাংলাত। কোচবিহার রাজ্যত সৌগ প্রজারে কোনো না কোনো স্বত্ব ছিল। আর উমাক কত পার্সেন্ট হারে খাজনা দেওয়া খাইবে তার লিখিত সার্কুলার ছিল। কাজেই শোষিত হওয়ার চান্ছ কম ছিল। বাংলার প্রজালার তুলনায় কোচবিহার রাজ্যের প্রজালার অবস্থা ভালয় ছিল যা কোচবিহার রাজ্যের স্কুল সুপারিন্টেডেন্ট ভগবতীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় মহাশয়ের ল্যাখাত পাওয়া যায়।

আরো কিছু ভুমির অধিকারী ছিল কোচবিহারত তা নিয়া পরে লেখিমো। 


👉কামতা কোচবিহারের ১০০র বেশী প্রকারের ধানের নাম যা বর্তমানে পাওয়া মুশকিল।

Share..

Share on twitter
Share on email
Share on whatsapp
Share on facebook
Categories

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Recent Posts

Koch - Rajbanshi - Kamtapuri

Literature & History (English)

Tour & Travel

Author: Vivekananda Sarkar

Author: Vivekananda Sarkar

Dairy Technologist, Microbiologist
Special interest to explore History, Language and Culture। Koch-Rajbanshi-Kamtapur

Search the Business Directory