চিকনা ধনীর নাতি নাতনি – জাতি না মাটি?- নাই কোনো টানাটানি/ বাস্তবচিত্র

Posted by

চিকনা ধনীর নাতি নাতনি – জাতি না মাটি?- নাই কোনো টানাটানি।।

লেখাইয়া: বিবেকানন্দ সরকার

সমারু ঘর পাঁচ ভাই, চাইর বোইনি (জাতি কোচ রাজবংশী, যায় যেটা ভাবেন)। সমারুর বাপ ছিল চিকনা ধনী, জাগা জমি ছিল 60-70 বিঘা। জমির উপরায় উমার সংসার চলে। সমারু আর তার ছোটোজন বাদ দিয়া বাকী তিন ভাই চাকরী করে। দুই জন বিএসএফ আর একজন হাইস্কুলের মাস্টার। চিকনা ধনীর চাইর বেটির বিয়াও দিতে মোটামুটি 15-20 বিঘা জমি বেচি গেইচে। এক বেটিক বাদ দিয়া বাকী তিন বেটিক অবশ্য চাকিরান্দার ঘরত বিয়াও দিচে চিকনা ধনী। সমারু ঘর যেলা ছোটো ছিল সেলা সগায় দেশী ভাষাতে (কামতাপুরী / রাজবংশী) বাড়িত কথা কৈচে। যাত্রা পূজা, ভোগা দেওয়া, নয়া খাওয়া, গোরনাথ মাগা, শিবপূজা নবুদ, আটকালাই বাটকালাই, আমাতি পূজা, মাশান পাটত পূজা, গেরাম ঠাকুরের পূজা কুল্লায় পূজা বাড়িত হৈচে আর গোরনাথ মাগিয়া বোনভোজন খাওয়ার গল্প উমরা এলাও দ্যাখা হৈলে করে।

সমারুর ভাইলার নাম নগেন, রমেন, মুকুন্দ, কান্চন আর বোইনিলার নাম মিনতি, নমেশ্বরী, সবিতা, আর ললিতা। লাইন ধরি কৈলে এইনাকান হৈবে।সমারু >মিনতি> নমেশ্বরী> নগেন> রমেন> মুকুন্দ> সবিতা> কান্চন> আর ললিতা। বোইনিলার ভিতরা ললিতা সগারে ছোট আর আদরের।  বড় বেটি মিনতি আর তার পরের জন নমেশ্বরীর বিয়াও জাকজমক করি দিচে উমার বাপ আর তার জন্যে জমিও মেলা বেচাইচে পোথোম পোথোম। পরের দুই বেটির বিয়াওর জন্যে জমি কম বেচাইচে কারন সেলা চাকরী করা ভাইলা সাহায্য করিচে। রমেন মাস্টারের চাকরী পায়া টাউনত বাড়ি করিচে। বিয়াও হৈচে টাউনত মানসি হওয়া কোনো এক কেরানীর বেটির সাথত। এক বেটা আর এক বেটি রমেনের। টাউনত আসি রমেন আর তার পরিবার অবশ্য যাত্রা পূজা সহ বাকী পূজালা আর করেনা, করেনা কৈলে ভুল হৈবে কওয়া যায় করা হয়না। কারন উমার গিত্যানি অত ব্যাপার স্যাপার বা পূজা পার্বণ বিষয়ে জানেনা টাউনত মানসি হৈচে বুলি। ছাওয়ালাও ছোটো থাকি শিবপূজা নবুদ, যাত্রা পূজা সহ অন্যান্য পূজালার নামে জানেনা।মুকুন্দ আর কান্চনও  বিএসএফ চাকরী থাকি রিটায়ার্ড হওয়ার পর মহকুমা টাউনতে বাড়ি করি সংসার পাতিচে। মুকুন্দ গেরামের চেংড়িক বিয়াও করাইচে দেখি গেরামের পূজা অর্চনা জানে তারমধ্যে যাত্রা পূজাটা পত্তি বছর হয় উমার টাউনের বাড়িত, ছাওয়ালা অবশ্য দেশী ভাষাও কবার পায় ফির স্কুলের ভাষাও কয়। বাপ মাওয়ের সাথত স্কুলের ভাষাতে কয় বাড়িত। কান্চনের বাড়িত ফির এইলা হয় না, কারন উমার গিত্যানি বায়রাত মানসি হৈচে, উমার বাপ আর্মিত চাকরি করছিল; দুই বছর মেঘালয় তো চাইর বছর মধ্যপ্রদেশ এংকরি উমার জীবন কাটিচে, কান্চনের শশুড় বাড়িতও কোচ রাজবংশী কৃষ্টি নিয়ম কানুন পালন হয় নাই, দেশী ভাষাও চর্চা করা হয় নাই, কান্চনের গিত্যানির মুখত হিন্দি টায় বেশী আইসে। কান্চনের দুইটা ব্যাটা, দোনেটায় হিন্দি ভাষা আর হিন্দি বলয়ের সংস্কৃতি টাক যেন বেশী নিজের মনে হয়। সমারু আর নগেন গেরামের বাড়িতে জমিজমা দেখভাল করে।

বোইনিলার বিয়াও দেওয়ার পর মোটামুটি 50 বিঘা জমি ছিল, সমারু আর নগেনের ভাগত 15 বিঘা করি জমি পড়িচে আর বাকী তিন ভাই মিলি 20 বিঘা ভুই ভাগ করি নিচে। সমারু আর নগেনের সংসারত খানেক হৈলেও কষ্ট আছে। ছাওয়ালা গেরামের স্কুলতে বই পড়ে। গেরামত যেহেতু মানসি হবার ধৈরচে ছাওয়ালা ঐজন্যে বাড়ির আদি কৃষ্টি সংস্কৃতি কুল্লায় পালন করা দ্যাখে আর ভাষা তো দেশী ছাড়া কবারও পায় না। সমারু, নগেন বা বাকী তিন ভাইয়ের বেটা বেটিলা কাংও জানে না উমরা কোন জাতির। উচ্চমাধ্যমিক পাশ করার পর অবশ্য জানির পাইচে সাবকাস্ট, – সার্টিফিকেট এর সৌজন্যে। বেটা বেটিলার কাংও গর্ব করি কয় উমার সাবকাস্টের  কথা আর কাংও নৈজ্যা খায় কবার । গেরামত যে ছাওয়ালা মানসি হৈচে উমরা বাদ দিয়া টাউনের ছাওয়ালা দেশী ভাষা কয় না বা মুখতে আইসে না, সাবকাস্ট তো মুখতে আনির চায়না অন্য মানসির আগত। অবশ্য এই নিয়া কাংও পুছিলে স্যানে মুখত আনিবে।  চিকনা ধনীর নাতি নাতনি ঘরের একে প্রজন্মের দুই তিন কসমের ছাওয়া হয়া গেইল্ – কাংও হিন্দি ভাষা সংস্কৃতির সাথত চলতি ভাষা মিশল, কাংও দেশী ভাষা সংস্কৃতি আর কাংও স্কুলের ভাষা ও টাউনের চলতি সংস্কৃতি। 
নাতির ঘর বই পড়ি সগায় বায়রা চাকরী করির গেইল্ তার মধ্যে দুইজন বিয়াও করি বায়রাতে সেটল হয়া গেইল্। জাতির নাম তদ্দিনে ভুলি গেইচে। আর মানসি তো আর জাতির নাম পোছেনা ঐজন্যে মুখত আনাটাও ঠিক না। নাতনির মধ্যে একজনের বিয়াও টাউনতে হৈচে আর একজন অন্য রাজ্যত চাকিরান্দার চেংড়ার সাথত, বায়রাতে বাড়ি করি নিয়া সেটল। ইমারো একে অবস্থা ভাষা কৃষ্টি সংস্কৃতি আগত অল্প অল্প থাকিলেও এলা এখনাও নাই। আর জাতির নাম খালি সার্টিফিকেটত আছে। সমারুর এক ব্যাটা চাকরী পায়া বিয়াও করি টাউনত বাড়ি করিচে। আর এক ব্যাটা ভালে কয় বছর হরিয়ানাত থাকার পর এলা বিয়াও করি নয়া বাড়ি করিচে গেরামতে দোকানও দিচে একটা হাটত।নগেনের একটায় বেটি, বিয়াও হৈচে টাউনত।জমিজমা যা ছিল বেটিকে দিচে। চিকনা ধনীর বেটির ঘরের নাতি নাতনিলাও কাংও রাজ্যের বায়রাত সেটল হৈচে, কাংও মহকুমা টাউনত বাড়ি করিচে আর কাংও হরিয়ানা, কেরালা। মাটির উপরা অধিকার থাকিলেও কাংও মাটির ইতিহাস জানেনা বা মাটির নামখানে জানির পায় নাই। বায়রাত যায়া সেটল হৈল তাও জানির পাইল্না মাটির কথা।

চিকনা ধনীর যে নাতি বা নাতনিলা বায়রাত সেটল হৈচে তার ব্যাটা বেটিলার অন্য ভাষা কৃষ্টি ও সংস্কৃতি যুক্ত জাতির সাথত বিয়াও হওয়াটায় স্বাভাবিক। আর এই জিনিস হৈলে জাতির বিশুদ্ধতা আর কোটে থাকিবে, থাকিলেও থাকির পায় খালি ভাষা কৃষ্টি ও সংস্কৃতি বাদ দিয়া – ফলক মাত্র। বর্তমান পরিস্থিতি অনেকটায় ঐনাকান। 

Facebook Comments

Leave a Reply / Comment / Feedback