কোচ রাজবংশী কামতাপুরী ছাওয়ালার বিলুপ্তপ্রায় ভাষাগত পরিচয় ও পঃবঃ সরকারের দায়বদ্ধতা।

Posted by

দ্রীপ্তা পিপালি নামে এক গবেষক (সম্ভবত Professor – IIT Kharagpur, Humanities and Social Sciences) 2007 সনত এখান আর্টিকেল জমা করিছিলেন CRY, Delhi (Child Right and You) অর্গানাইজেশনত। সেই আর্টিকেল এর বিষয় ছিল Where Children Lose Their Language : The Endangered Linguistic Identity of the Rajbanshi Children of North Bengal. মানেটা হৈল্ এইনাকান- “কোন জাগাত ছাওয়ালা তার ভাষা হারায়: উত্তরবঙ্গের রাজবংশী ছাওয়ালার বিলুপ্তপ্রায় ভাষাগত পরিচয়। CRY হৈল্ একটা এনজিও (NGO) সংস্থা যা ছাওয়ালার অধিকার নিয়া কাজ করে সারা ভারতত।

জলপাইগুড়ি জেলার লাটাগুড়ি, জলপাইগুড়ি সদর আর আমগুড়ি এলাকাত উমরা ফিল্ড ওয়ার্ক করিছিলেন। বিশেষ করি প্রাইমারি স্কুলগুলাত গেছিলেন এই জাগালার। লাটাগুড়ির উত্তর মাটিয়ালি নিউ অ্যাডিশনাল প্রাইমারি স্কুল, জলপাইগুড়ি সদরের সুভাষনগর মাহুতপাড়া* প্রাইমারি স্কুলত গেছিলেন আর আমগুড়িত কিছু শিক্ষক আর ছাত্রলার সাথত কথা কৈছিলেন।উমরা পোথোমে স্কুলের মাস্টারলাক কৈচিলেন যে তোমরা বোঝার ক্ষমতা অনুযায়ী কিছু ছাত্রক বাছি নেও যায় “ভাল্” , “মোটামুটি”, আর “খারাপ” হিসাবে ধরেন তোমরা। এবার উমরা চখু বন্ধ করি (random) ওটি হাতে কিছু ছাত্রক বাছি নিয়া ছাত্রলার সাথত কিছু পোশনো পর্ব করি অবসার্ভেশনস নোট করিছিল। পোশনোগুলার মধ্যে ছিল যেমন পিকচার স্টোরি টেস্ট, ভলানটারি স্টোরি টেলিং, আর শিক্ষকলার  সাথত ইন্টারভিউ। ছাওয়ালার পড়ার বই (ফার্স্ট ল্যাংগুয়েজ) বাংলা ভাষাত যা ওয়েস্ট বেঙ্গল বোর্ড অফ প্রাইমারি এডুকেশন থাকি দেওয়া হয় এটাও ক্রাইটেরিয়াত ধরা হৈচিল। এবার আমগুড়িত উমরা কিছু উচা ক্লাসের ছাত্র আর মাস্টারের সাথত কথাবার্তা কৈচিল যাতে এই গবেষনার বিষয়বস্তু ভাল্ করি ফুটি উঠে। 

প্রধান যে কারনটা উমরা উল্লেখ করিছিল সেইটা হৈল্ প্রাইমারি স্কুল হাতে রাজবংশী ছাওয়ালা ভাষার অধিকার থাকি বন্চিত (মানবতা অধিকারের মধ্যত পরে এইটা)। বেশীরভাগ স্কুলত রাজবংশী ছাওয়ালাক তার মাওয়ের ভাষাত কথা  কবার দেওয়া হয় না বা ভাব পরকাশের ক্ষেত্রত শাস্তি দেওয়া হয়। বাড়ির ভাষা স্কুলত কবার  না পাওয়া যা ছাওয়ালাক ভাব পরকাশের অধিকার থাকি বন্চিত করা হয়। এইনাকান করি রাজবংশী ছাওয়ালার ভাষাগত পরিচয় তথা সামাজিক – জাতিগত পরিচয়ের উপরা প্রভাব পরে। উমার কথাত যা স্পষ্ট ছিল সেইটা হৈল্ স্কুলের পড়ার বইএর ভাষা সংখ্যাগুরু রাজবংশী ছাওয়ালার মাওয়ের ভাষাক নিরবে শ্যাষ করি দিবার ধৈরচে। বায়রা থাকি দেখিলে প্রাথমিক স্তরত ভাষার যে কারিকুলাম আছে সেইটা সমস্যাবহুল না দেখা গেইলেও ভিতরাত নুকি থাকা যে কারিকুলাম আছে যেটা মাস্টারলার হ্যান্ডবুকত আছে সেইটা দেখিলে উদ্দেশ্য জলের নাকান পরিস্কার হয়। 

সেই গবেষনা পত্রত আরো ল্যাখা আছে যে 1980 সালে পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষামন্ত্রী শ্রী পার্থ দে উমার এক আর্টিকেল ‘Prothom store prothom bhasha’ / পোথোম  স্তরত পোথোম ভাষা (First Language in Primary Level) কৈচিলেন – learning through mother tongue can not be compared with any other methods of learning. মানে হৈল্ মাওয়ের ভাষাত শিক্ষার সাথত অন্য কোনো কিছুর শিক্ষা পদ্ধতির তুলনা হয় না। কিন্তুক বাস্তবে দেখা যাবার ধৈরচে যে পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষা দপ্তর জোর জবরদস্তি বাংলা ভাষাক ফার্স্ট ল্যাংগুয়েজ করি থুইচে। খালি দুই একটা স্কুলত উর্দু, নেপালী, হিন্দি, সাঁওতালী ভাষাত পড়ানো হয় প্রাথমিক স্তরত। 

পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষা দপ্তরের যে টিচার্স হ্যান্ডবুক আছে ওটি পরিস্কার ল্যাখা আছে যে “Child should learn to shift his/her home language to the standard language’. মানে, ছাওয়ালা যাতে নিজের মাওয়ের ভাষা /বাড়ির ভাষা থাকি স্ট্যান্ডার্ড ভাষাতে শিফ্ট করা শেখে। আর এই শিফ্টিং করার কাজ হৈল্ মাস্টারলার। কিন্তুক কথা হৈল্ এই মুখ থাকি মাওয়ের ভাষা শিফ্টিং করা কি সহজ কাজ?? আর রাজবংশী ছাওয়ালার মুখের ভাষাটা কি আদৌ বাংলা গোত্রের মধ্যত পরে?? পশ্চিমবঙ্গ সরকার কোনোদিন এই জিনিসটা কি লক্ষ্য করিচে যে উত্তরের সংখ্যাগুরু মানসিলার ভাষার পরকাশ এ আলদা। সবথাকি বড় কথা হৈল্ মাস্টারলার কি ক্ষমতা ছিল বা আছে ছাওয়ালার বাড়ির ভাষাতে কোনো কিছু ভাল্ করি বুঝানো।

স্কুলের ক্লাসত রাজবংশী ছাওয়ালাক খালি নিজের মাওয়ের ভাষাত কথা কবার অনুমতি দেওয়া হয় না, কামতাপুরী / রাজবংশী ভাষার কোনো শব্দ ব্যবহার করিলেও নিচা চখুত দ্যাখা হয় যার পরোক্ষ মদত দাতা কলিকাতা পরিচালিত পশ্চিমবঙ্গ সরকার, এই কথা অস্বীকার করার উপায় নাই। পশ্চিমবঙ্গ সরকার ভাষাটাকে অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করিচে রাজবংশী ছাওয়ালার ভাষাগত- সামাজিক-সাংস্কৃতিক পরিচয় মুছি দিবার বাদে যা এই আর্টিকেল থাকি পরিস্কার বুঝা যায়। 

CRY এর গবেষক আরো লেখিচেন যে বাংলা ভাষার ব্যবহারের ক্ষেত্রে সরকার আরো কঠোর হৈচে আর সেই নাকান করি ডাইরেকশন দেওয়া আছে স্কুললাত। কারন কামতাপুর আন্দোলন (Kamtapur movement)  তথা কামতাপুরী ভাষা আন্দোলন যা বেশীরভাগ রাজবংশী মানসিরে আন্দোলন। তবে এই ভাষাত কথা কওয়া মানসি খালি রাজবংশী নোমায়, খেন, নাথ, নস্যসেখ মুসলিম সহ আরো মেলা সম্প্রদায়ের মানসি এই ভাষাত রাও করে। 

বাংলা ভাষার সোতে কামতাপুরী /রাজবংশী ভাষার পার্থক্য কি কি এই নিয়াও পেপারখানত ল্যাখা আছে বিস্তারিত ভাবে। কিছু ফিল্ড ওয়ার্কের নমুনাও আছে। গোটায়খান পড়ির চাইলে পড়ির পান। 

মুইও একজন কামতাপুরী কোচ রাজবংশী ছাত্র হিসাবে স্কুলত এই জিনিসটা অনুভব করিছিলুং। ক্লাস V-VI পর্যন্ত বাংলা ভাষাত কথা কবারে পাং নাই। মোর স্কুলের মাস্টার মহাশয়গনের অস্বীকার করির উপায় নাই। জোর করি হামারলার উপরা বাংলা ভাষা চাপে দেওয়া হৈচিল। মেলা গরীব আর অশিক্ষিত ঘরের ছাওয়া তো স্কুলত যাবারে চাইবে না ভাষার এই নাকান কাউকাস্টাং দেখি। ব্যাপারটা হৈচেও তাই,  দীর্ঘ অতীত হাতে ধীরে ধীরে কামতা ভুমির মানসিলা শিক্ষা সহ সৌগ দিকতে পাছে গেইছে। পাছে গেইলে কওয়া ভুল হৈবে পাছত থোয়া হৈচে জোর করি। কারন মেধা যথেষ্ট আছে এত্তিকার ছাওয়ালার।

 আশাকরং কামতাপুরী কোচ রাজবংশী সমাজ খালি ভাষার নাম নিয়া ক্যাচাল না করি ভাষাটাক অষ্টম তফসিলত কেংকরি অন্তর্ভুক্ত করা যায় সেই ব্যাপারে মনোনিবেশ করিবে। অষ্টম তফসিলত নথিভুক্ত হওয়ার ব্যাপারে পশ্চিমবঙ্গ সরকারেরটে সাহায্যের আশা করা যায় কিনা সেই নিয়া অবশ্যই কনফিউসন আছে। 

আরো পড়ির চাইলে নিচের লিংকলাত যান –

👉কবিতার নাম “গোলসাঙ” – কবি সুদন্ত বর্মন

👉মাওয়ের ভাষার মর্ম সগায় বোঝে বাহে/ ভাষা আগ্রাসন আর কদ্দিন চলিবে?

👉ভাষা, কৃষ্টি ও সংস্কৃতি – কোচ রাজবংশী – কামতা

👉কোচ রাজবংশী কামতা সংস্কৃতি, ভাষা নিয়ে বেলাগাম কটূক্তি – একপেশে পশ্চিমবঙ্গ সরকার??

👉কোচ – রাজবংশী -কামতাপুরী সামাজিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক অধিকার / বাংলা সংবাদমাধ্যমের ভুমিকা।

Facebook Comments

Leave a Reply / Comment / Feedback