মিথ্যা মামলাত গায়ত্রী দেবীর তিহার জেলত হাজতবাস/ ইন্দিরা গান্ধীর ভূমিকা।

Posted by

1975 সালের জুলাই মাসের শ্যাষের দিকত গায়ত্রী দেবী বম্বে থাকি দিল্লী আসছিল পার্লামেন্টত যোগ দিবার। ট্রেজারী বেন্চ ভর্তি ছিল সৌগ কংগ্রেসের এমপিলাক নিয়া কিন্তুক বিরোধী পার্টির সিটলা ছিল একেবারে খালি, কংগ্রেসের সদস্যলা গায়ত্রী দেবীক দেখি অবাক। ঐদিনে বৈকাল বেলা মোটামুটি 4টার সমায় দিল্লীর বাড়িত যেলা গায়ত্রী দেবী রেস্ট নিবার ধরছিল, হাউস কিপার আসি গায়ত্রী দেবীক কয় যে কিছু অফিসার আসিছে বাড়িত উমার  সাথত দ্যাখা করির চায়। যথারীতি গায়ত্রী দেবী উমার সাথত দ্যাখা করে আর পোছে যে কি জন্যে আসিছে? অফিসারলা কৈলেক যে উমরা গায়ত্রী দেবীক অ্যারেস্ট করির আসিছে কারন উযার নামত অ্যারেস্ট ওয়ারেন্ট আছে। কারনটা হৈল্ – 

C. O. F. E. P. O. S. A = Conservation of foreign exchange and Prevention of Smuggling Act. 
Hawa Mahal

গায়ত্রী দেবী ঐ সমায় উকিলক ফোন করার আবেদন করছিল অফিসারলাক কিন্তুক উমরা কয়া দিছিল যে টেলিফোন ব্যবহার করা যাইবে না। ঐদিন গায়ত্রী দেবী আর উমার বেটা কলোনেল ভবানী সিং (ডাক নাম বাবল) দোনেজনকে দিল্লির তিহার জেলত ঢুকাইছিল। 

তিহার জেলত ঢুকানোর আগের কয়দিন বা কয়মাস আগের সমায়টা আরো বেশী বেদনাদায়ক ছিল গায়ত্রী দেবীর। কি ছিল সেই দিনগুলা?… 

1975 সালের ফেব্রুয়ারি মাসের একদিন  সাকালে যেলা ব্রেকফাস্ট করির ধরছিল মোতি ডুংরি মহলের (জয়পুর) ঝি আসি কয় যে, কয়জন অপরিচিত মানসি আসিছে উমরা গায়ত্রী দেবীর সাথত দ্যাখা করির চায়।গায়ত্রী দেবী উমাক ভিতরা আসির কয়। উমরা পরিচয় দেয় যে উমরা হৈল্ ইনকাম ট্যাক্স অফিসার, পুরা মহল খোঁজাখুঁজি করির জন্যে আসিছে। গায়ত্রী দেবী কয়া দিল্ যে কোনো ব্যাপার না কি খোঁজার আছে খোঁজো কিন্তুক মোর একটা আর্জেন্ট অ্যাপোয়েন্টমেন্ট আছে ঐজন্যে মোক বিরা খাইবে। উমরা কয় কাংও মহলের ভিতরা থাকি বির হবার পাইবে না। ঠিক একে সমায়ে সিটি প্যালেস, প্রত্যেকটা রুম আর অফিস ঘর, মিউজিয়াম, রামবাগ প্যালেস হোটেল, রাজমহল, দিল্লির পার্লামেন্টারী হাউস সৌগ জাগাতে খোঁজাখুঁজি করিছিল ইন্দিরা গান্ধীর আমলের সরকারী অফিসারলা। 
A Fort of Rajasthan
ঠিক দুইদিন পরে জয়গড় ফোর্ট রেইড করার জন্যে যেলা ইনকাম ট্যাক্স অফিসারলা হাজির হৈছিল জয়গড় ফোর্টের গার্ড তথা রাজস্থানের মিনা আদিবাসীর মানসি (পরম্পরাগত) পথ আটকে দিছিল উমার, কৈছিল যেদু এই ফোর্টত কাংও ঢুকির চান তালে ডেড বডির উপরা দিয়া যাওয়া খাইবে। প্রসঙ্গত মহারাজা জয়সিং জয়গড় ফোর্ট নির্মান করার পর কারো সাহস বা অধিকার ছিলনা ঐ ফোর্টের ভিতরা ঢোকার একমাত্র মহারাজা আর কিছু বিশ্বাসযোগ্য সেনা অফিসার ছাড়া। 
সরকারী অফিসারলার মোটামুটি একসপ্তাহের এই কান্ডকারখানাত গায়ত্রী দেবী শান্তই ছিল। একদিন বৈকালে মোতি ডুংরিত যেলা গায়ত্রী দেবী টিফিন করির ধরছিল ইনকাম ট্যাক্স অফিসারলা আসি মহলের ভিতরা একজাগাত  মজিয়ার পাথর তোলার চেষ্টা নাগের ধরছিল। আর এই প্রচেষ্টাত অফিসারলা মেলা সোনার কয়েন খুঁজি পায় পাথরের মজিয়ার নিচ থাকি। কিন্তুক সৌভাগ্যবশত এই সোনার কয়েনের ব্যপারটা লিপিবদ্ধ ছিল জয়পুর স্টেটের বাজেটের সমায় আর পাইটুপাই হিসাব ছিল তার। আর এই কয়েনলা নাহারগড় ফোর্ট থাকি মোতি ডুংরিত নিয়া আইসা হৈছিল। 
এইনাখান হ্যারাসমেন্ট চলিতে থাকে দিনের পর দিন যতক্ষন না কোনো ছুচনা পাওয়া যায়। আর রুলিং সরকার যেলা কারো পাছিলাত পরে ছুচনা বির করিতে আর কতক্ষণ। 
কিন্তুক এই হ্যারাসমেন্ট কিসের জন্যে? 
মেইন ব্যাপার হৈল্  1971 এর বাংলাদেশ যুদ্ধত ইন্দিরা গান্ধীর পপুলারিটি বাড়িলেও তার পরে পরেই কংগ্রেস সরকার চাপত পরে বিভিন্ন ইস্যু নিয়া। ব্যাঙ্ক, জেনারেল insurance, কোল মাইনস, গম ব্যবসা সৌগ ন্যাশনালাইজ হয়া গেছিল, দ্রব্যমূল্যের দাম হয়া গেছিল আকাশছোয়া। বিরোধী পার্টির ন্যাতালাও বিভিন্ন সমায়ে বিভিন্ন আন্দোলন চালের ধরছিল, ঐ সমায়ে, মানে 1974-75 নাগাদ এমপি তথা রেলওয়ে ওয়ার্কারস ইউনিয়নের নেতা জর্জ ফার্নান্ডেজ এর নেতৃত্বে 3 সপ্তাহের রেল ধর্মঘট হৈছিল। এদি ফির 1975 এর 12 জুন এলাহাবাদ হাইকোর্ট ইন্দিরা গান্ধীর বিরুদ্ধে লোকসভা ইলেকশনত কারচুপি করার চেষ্টার চার্জশিট বির করিছিল, পার্লামেন্টারী সিস্টেমত ইন্দিরা গান্ধীর পছন্দের সৌগ নাকচ হয়া কোর্টের মাধ্যমে ঠিক হয়া গেছিল। কোর্ট যা কৈবে সেইভাবে করা খাইবে। মানে আরো খারাপ অবস্থা। এই অবস্থায় ইন্দিরা গান্ধী আরো ভয়ানক হয়া গেছিল, যেনতেন প্রকারে ইলেকশন জেতায় খাইবে। গায়ত্রী দেবীর কথাত ঐ সমায় ইন্দিরা গান্ধী ডেমোক্রাসি একেবারে ধ্বংস করি দিছিল। 24 জুন 1975, ক্যাবিনেটত কনসাল্ট না করি ইন্দিরা গান্ধী ইমারজেন্সী ঘোষনা করে, ইন্দিরা গান্ধীর মতে কারনটা হৈল্ সিভিল ডিসঅবেডিয়েন্স ধর্মঘট যা বিরোধী দললা প্ল্যানিং করি করির ধরছিল। ইন্দিরা গান্ধী ঐসমায় ডিক্টেটরের নাখান আচরন করছিল, প্রায় সৌগ বিরোধী দলের ন্যাতালাক একের পর এক জেলত ঢুকাইছিল under MISA (Maintenance of Internal Security Act). নিউজপেপারলাক কন্ট্রোল করি রাখছিল যেটা আইজকালও হয়। অবশ্য আইজকাল বেশীরভাগ নিউজ চ্যানেল চাপ নিবার চায়না। 
মিথ্যা মামলাত প্রায় 5 মাস তিহার জেলত ছিল কোচবিহারের রাজকন্যা তথা জয়পুরের মহারানী গায়ত্রী দেবী। 
 
Facebook Comments

Leave a Reply / Comment / Feedback