একজন বঙ্গরত্নের করুণ অন্তিম দশা! 

Posted by

“Laugh and the world laughs with you, cry and you cry alone” – Poem “Solitude” Ella Wheeler 1883

মানে আপনি যখন হাসবেন দেখবেন সবাই আপনার সংগে হাসছে (বা অনেকে হাসার চেষ্টা করছে) , আর যখন কাঁদবেন তখন আপনি একাই কাঁদছেন।
মানে সুখের সময় আপনার পাশে লোক গিজগিজ করছে সুখানুভুতি উপলব্ধি করার জন্য। আর দুঃখের সময় সব হাওয়া, আপনি একাই।
একেবারে বাস্তব কথা, অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই।
কয়েকদিন আগেই তো দেখলেন কলকাতার রানু মন্ডল নামে মহিলার কাহিনী। পথে পথে ঘুরে বেড়াতেন আর গান করে ভিক্ষা করতেন।
যখন দুঃখে কষ্টে চলত তাঁর একাকি জীবন পাশে কেউ দাড়াইনি, এমনকি ওনার নিজের মেয়েও না। আর যখন উনি মিডিয়ায় হাইলাইট হলেন তারপরেই ওনার মেয়ের মায়ের উপর দরদ উতলে পড়ল যে কিনা বিগত দশ বছরেও মায়ের খোঁজ নেয়নি।
বঙ্গরত্ন ফুলতি গিদালীর অবস্থা অনেকটা এরকমই। সাইটল বিষহরি সম্রাজ্ঞী ফুলতি গিদালী আজ আমাদের মধ্যে নেই। ওঁনার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করি। কথা হল ফুলতি গিদালীর পরিবার কোনো কালেই সেই অর্থে সচ্ছল ছিলনা। সাইটল গান ছিল তাঁর সখের, তাঁর নিষ্ঠা, সর্বোপরি তার পেশা বলা যেতে পারে। 2013 সালে পঃবঃ সরকার ওনাকে বঙ্গরত্ন সন্মানে ভূষিত করে। ব্যস ঔটুকুই। তারপরে ওনার সংসার, পরিবার চলবে কেমন করে সেব্যাপারে সরকারের কোনো দায়বদ্ধতা নেই, খোঁজখবরও নেই।
আমি জানিনা সন্মান বাদ দিয়ে বঙ্গরত্নের পুরস্কার মূল্য কত? যে টাকা দিয়ে একজন মানুষ সচ্ছল ভাবে পরিবার চালাতে পারবে বিশেষ করে যারা বয়সের ভারে জর্জরিত। কারন একজন গরীব মানুষের (দিন আনা দিন খাওয়া বলতে পারেন) কাছে তার প্রতিভার সন্মানের সাথে একটা বিশেষ অংকের টাকাটাও দরকার যেটা দিয়ে উনি সংসার চালাতে পারবেন, না হলে পূর্ণিমা চাঁদ যেনো ঝলসানো রুটিই মনে হবে রাতের বেলায়। ফুলতি গিদালী যখন বঙ্গরত্ন পুরস্কার পেয়েছেন ওনার শরীর বয়সের ভারে জর্জরিত। পঃবঃ সরকার যখন ওনাকে বঙ্গরত্নে ভূষিত করলেন তখন পাশাপাশি কিছু নেতা মন্ত্রীকে দেখা যেত ক্রেডিট নেওয়ার জন্য। কিন্ত বঙ্গরত্ন পুরস্কারের রেশ কেটে যাবার পর তাদের আর কোনো পাত্তাই নেই। এমন কি তাঁর অন্তিম যাত্রায় তাঁর পরিবারের কিছু মানুষ আর কিছু সমাজসেবী ছাড়া আর কারোরই পাত্তা নেই।  পঃবঃ সরকারের এটা বঙ্গরত্ন স্কীম ছিল না তো? মাঝে মাঝে এই প্রশ্নগুলো ঘুরপাক খায়।
কিছু মহানুভব মানুষের আর্থিক সহযোগিতার জন্য আজ ওঁনার সৎকার  ক্রিয়া পুটিমারি ভূতকূরা ধল্লা নদীর শ্মশান ঘাটে সম্পন্ন হলেও পরবর্তী শ্রাদ্ধানুষ্ঠান কি করে সম্পন্ন হবে সেটা এখোনো প্রশ্নের বিষয়। (তথ্য – অনিল বর্মন)
ফুলতি গিদালীর বৈষয়িক সম্পত্তি বলতে 4-5 কাঠা জমি আর একটা টিনের চালাঘর।
কিন্ত যে সম্পত্তি উঁনি রাজবংশী কামতাপুরী সমাজের জন্য রেখে গেছেন তা অসীম, অমূল্য ; পয়সা দিয়ে তার পরিমাপ করা যাবে না।
পশ্চিমবঙ্গে আরো এরকম বঙ্গরত্ন নেই তার কী গ্যারান্টি আছে ? অভাব অনটন যাঁদের দৈনন্দিন জীবনের চিরসাথী।


Facebook Comments

Leave a Reply / Comment / Feedback